Skip to main content

রিজিকের মালিক আল্লাহ

 একমাত্র বউ😀 এবং কন্যার চিন্তা মাথায় রেখেই গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসি। এ ছাড়া, করোনা মহামারীর কারণে ৪টা ঈদ পরিবারের সাথে করতে না পারার গ্লানি কমানোর উদ্দেশ্যে বউ এবং কন্যাকে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নাই।

ঢাকায় ছাত্রাবস্থায় রান্নায় হাতে খড়ি। জামালপুর কিংবা ময়মনসিংহ এর গুটিকয়েক বুয়ার হাতের রান্না গলাধঃকরণ করার থেকে আমার হাতের রান্না হাজার গুণ ভালই। ঢাকায় একা থাকার সুবাধে তাই অফিস থেকে ফিরে রান্নাটা নিজেকেই করতে হয় যেহেতু বুয়ার রান্না সচরাচর এড়িয়েই চলি।

গতকাল ভেবে চিন্তেই একটু বেশি করে রান্না করেছি (স্বাদটা চমৎকার) যেহেতু পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আজকে গ্রামের বাড়ি যাব। গতকাল রাতে খাওয়া শেষে তরকারিটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার গরম করে খেয়ে অফিসে গিয়েছি।

ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবস তাই ব্যস্ততাও বেশ। শাখার বেশিরভাগ সহকর্মী ঈদে টিকেট না পেয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুপুরের আগে বা পরেই বের হয়ে গিয়েছেন। কতিপয় জরুরি কাজের জন্য তাই আমাকে থেকে যেতে হলো। ওদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস যা রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় তার স্নিগ্ধা টিকেট (অনলাইনে) পেয়ে যারপরনাই খুশি। দেখতে দেখতে অফিসে প্রায় ৬টা বেজে গেল। অফিস থেকে বাসার দূরত্ব (এভারেজ) প্রায় ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা (যানজট বিবেচনায়)।

কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই তল্পিতল্পাসহ অফিস ত্যাগ করে বাসায় পৌছাতে ঢেড় সময় লেগে গেল। সময় খুবই কম তাই দ্রুত ফ্রিজের ডোর ওপেন করতেই দেখি তরকারি নাই। চোখ কপালে তার মানে সকালে তরকারি ফ্রিজে রাখি নাই। ঢাকার তীব্র গরমে তরকারিটা ভাল থাকার কথা ভাবাই যায় না। ইন্না-লিল্লাহ পড়তে পড়তে রান্না ঘরে প্রবেশ করে দেখলাম তরকারিটা একদম টাটকা। মন থেকে কয়েকবার আলহামদুলিল্লাহ উচ্চারণ করলাম। খাওয়া শেষে ট্রেন যাত্রার জন্য কমলাপুর পৌছে যা দেখলাম তা রীতিমতো গায়ে কাটা দেওয়ার মত। ১টি ট্রেনে হাজার খানেক টিকেটের বিপরীতে কয়েক হাজার মানুষ। যাইহোক এসিতে টিকেট পাওয়ার সুবাদে ট্রেনে উঠতে খুব বেগ পেতে হয় নাই।

আপাতত ট্রেন যাত্রাটা নিরাপদ হোক এই দোয়া চেয়ে অগ্রিম ঈদ মোবারক

Comments

Popular posts from this blog

গন্ধ, হিংসার গন্ধ

এক সাথে দুই বন্ধু পড়াশোনা করত। তাদের একজন বেশ মেধাবী অপরজন কোন মতে টাইপের ছাত্র। পরীক্ষার ফলাফলও তাই, ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। এখানে দুইজনের বাড়ি যদি কাছাকাছি হয় ১ম জনের স্বজনেরা বুক ফুলিয়েই বলবে আমাদের ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে আর অমুকের ছেলে 'টেনেটুনে'।  এরপর এ দুজন দুটি পৃথক কলেজে ভর্তি হলো। ১ম জন বিজ্ঞান বিভাগে, ২য় জন মানবিক বিভাগে। ভর্তির সাথে সাথেই মন্তব্য আসবে ওমুকের ছেলে 'টেমেটুনে' তাই মানবিকে ভর্তি হয়েছে। আমাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হবে তাই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকগণ বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গেল ভর্তি করানোর জন্য আমাদের ছেলের এতই চাহিদা।  কলেজ জীবনও শেষ। পরীক্ষার ফলাফলও আগের মতই। ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'।  স্নাতকে ১ম জন Medical এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাও মস্ত এক সরকারি মেডিকেল কলেজে। আর ২য় জন ইসলামের ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করছে মফস্বলের কোন এক এমপিওভুক্ত কলেজে। কোন মতে যে স্নাতক টেনেটুনে পাস করলেই চাকরি যোগাড়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বে। Medical এ পড়াশোনা না করলেও ত্রিশের বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে একটা হাসপাতালের রিসি...

একটি আকস্মিক পরীক্ষা ও তার ফলাফল!!

চাকরির সুবাধে আগের ভার্সিটি ছেড়েছি তাও প্রায় ২ বছর হয়ে গেল। তৃতীয় বর্ষের শেষ সেমিস্টারের মিডটার্মের পরপরই ক্লাশ বন্ধ করতে হয়। পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারলে হয়ত আজ মাস্টার্সও শেষ হয়ে যেত। সমাজ-সংসারের অনেক কিছুই যে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ দিকে টিউশনিও ইদানিং অনীহা আর বাবার বড় ছেলেদের কাঁধের গন্ডারের চামড়ার চিহ্ন চাকরির খোঁজ করছিল মনে মনে। তাই ভার্সিটি ছেড়েই চাকরিতে যোগদান করেছি।  আজ ১৭ জানুয়ারি ২০১৭। অন্যদিনের মত সকালটা শুরু হলেও মনের মধ্যে একটা অন্য রকম অনুভূতি কাজ করছিল এজন্য যে আজ আবার ক্লাশে হাজির হচ্ছি তবে নতুন ভার্সিটিতে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেক ভেবে ব্লু কালার শার্টের সাথে কালো প্যান্ট পড়লাম। চশমাটা কিছুদিন আগেই ভাগ্নেটা ভেঙে ফেলেছে। কম্পিউটারে কাজ করতে হয় তাই চশমাটা ব্যবহার করতাম। খুব জরুরি ছিল না তাই আর কেনা হয়নি। যাইহোক আয়নাটা অন্য দিনের থেকে আজকে একটু বেশি সময় নিয়েই দেখলাম। ৮.১০ বাজতেই বাসা থেকে বের হলাম অফিসের গাড়ি চলে এসেছে তাই। গাড়িতে বসে ভাবছি আর অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছি। অফিসে এদিন সময়টা ফুরাচ্ছিল না। কাজেও খুব একটা মন বসছিল না। সারাক্ষণ ভাবতে লাগলাম স্বাভাবিক সময় ফুরিয়ে ...