Skip to main content

Posts

Showing posts from October, 2024

আজ তার জন্মদিন যার জীবনের ১ম শব্দটি ছিল "বাবা"

  সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকার গাইনি ওয়ার্ডের ৩য় তলায় স্ত্রীকে রেখে আমি অজানা কারণে নিচতলার ক্যান্টিনে যাই। আবার কোন কারণ ছাড়াই নিচে ২-৩ মিনিট পায়চারী দিয়ে ৩য় তলায় ফিরে আসি। সময় তখন আনুমানিক সকাল ৯টা দিনটা ১৯ অক্টোবর ২০২১ সাল। ১জন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, ১জন মেজর, ২জন এএফএনএস ও আরও কিছু নার্স (ডাক্তার সহ সবাই মহিলা) প্রবেশ করলেন অপারেশন থিয়েটারে। সমস্ত প্রস্তুতি শেষে সময় আনুমানিক ৯টা ২৫ এর দিকে ডাক আসল প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার। যথারীতি কয়েকজন নার্স এসে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো অপারেশন থিয়েটারে ততক্ষণে তার প্রসব বেদনা সহ্যের সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। সময় ৯টা ৩০ মিনিট যা হাত ঘড়িতে লক্ষ্য করলাম। শুরু হলো আমার কাউন্ট ডাউন। নিজেকে ক্ষণিকের মধ্যে অন্য জগতের মনে হয়েছে। কি করব, কি করা উচিত, কেন করা উচিত সবই ভুলে গেলাম। একবার ওয়েটিং রুম তো একবার থিয়েটারের সামনে এভাবে ১০ মিনিটের মধ্যে কয়েকবার চক্কর দিলাম। ওটির দিকে যদিও প্রবেশ নিষেধ কিন্তু নিজেকে সেই নিয়মের মধ্যে রাখতে পারছিলাম না আবার ভঙ্গও করতে পারছি না কারণ সেখানে প্রাইভেসির ব্যাপার আছে। বড় আপু আমাকে বারবার শক্ত হতে বলছেন। বলছেন আল্লা...

আজ ৯ অক্টোবর ২০২৪

  ৯ অক্টোবর ২০১২। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আম্মা হু হু করে কাদছে, আব্বার চোখের কান্না ভেসে উঠছে। একে একে বড় বোন, মেঝ বোন, ছোট বোন, ছোট ভাই, বাডির অন্যান্যদের এবং নিকট প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। পঞ্চগড় থেকে রাত ৮টায় আহসান নামের একটা নন এসি গাড়িতে আমার গন্তব্য স্বপ্নের ঢাকা। আব্বা আমাকে গাড়িতে দেওয়ার জন্য পঞ্চগড় এ এলেন। আসলেন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে বিদায় দিলেন; এদিকে গাড়ি ছেড়ে দিল। শুরু হলো একটি ভয়ংকর সুন্দর, অনিশ্চিত কিন্তু একরাশ স্বপ্নের পথে যাত্রা। রাতের রাস্তার পাশের বাতিগুলোকে স্বাক্ষী রাখতে সারারাত চোখ বন্ধ না করেই দোকান, ভবন, অফিস, হাসপাতাল ইত্যাদির নাম/সাইনবোর্ড পড়তে পড়তে হাজার ঘণ্টার জার্নি শেষ করে ঢাকা মানিকনগর এ নামলাম। আমার পাশের এলাকার রমজান আলী ভাই আমাকে রিসিভ করার জন্য ঢাকা সায়েদাবাদ এর একটু আগে মানিকনগর এ অপেক্ষা করছেন। আমি গাড়ি থেকে নামতেই তিনি আমাকে রিসিভ করে নিয়ে গেলেন মানিকনগর বিশ্বরোড থেকে ২০০ গজ ভিতরের একটা মেসে। সেখানে একসাথে থাকেন এলাকারই বড় ভাই সাদ্দাম, আলমগীর, মানিক, শিমুল, মাহামুদুল এবং রমজান ভাই। প্রথম দেখায় সবাই আমাকে আ...

ইট পাথরের শহর ছেড়ে

ট্রেনের জালানার পাশের সিটে বসে আছি। আমার পাশের যাত্রী আসবে এটা ভেবে ভেবেই কেটে গেল ৪টা ঘন্টা। ট্রেন চলছে অবিরাম গতিতে; সবুজতা ছেড়ে ইট পাথরের শহরে। জানালার পাশে ঠেস দিয়ে আমার চিন্তার জগতও অবিরাম চলছে। বাড়ির সামনে সবাইকে বিদায় জানিয়ে হেটে কিছুদুর গিয়ে গাড়িতে উঠব এই ভেবে হাটা শুরু করলাম। মা প্রথমে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও আমি কয়েক ফুট সামনে এগোতেই মা পিছন পিছন আসা শুরু করলেন। বারণ করলাম না এসে বাড়িতে যেতে কারণ টানা ২/৩ দিনের বৃষ্টিটা খানিক বিরতি দিয়ে আবার শুরু হওয়ার উপক্রম। মা পিছন পিছন এসে গাড়িতে তুলে দিয়ে তবেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন যা গাড়ির পিছন দিয়ে উপলব্ধি করলাম।  স্টেশনে নেমে ট্রেনের উদ্দেশ্যে প্লাটফর্ম এ অপেক্ষা করতে লাগলাম। আর মাত্র ২০ মিনিট সময় এরপরই শুরু হবে কংক্রিটের দিকে যাত্রা। ট্রেনে উঠেই ঠান্ডায় ত্রাহি অবস্থা তাই ব্যাগ থেকে ঠান্ডা নিবারণের সামগ্রী বের করে গায়ে জড়িয়ে ধরলাম। মাকে মনে পড়ল; কিছুটা সময় কেন যেন আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলাম।  নিজেকে সামলে নিয়ে পাশের যাত্রীর কথা কানে দিলাম; কত স্বপ্ন, কত আশা, কতই না ছুটে চলা। মাত্রই জমিটার বায়না দিয়েছেন তিনি, সেখানে কত কিছু কর...