Skip to main content

ইট পাথরের শহর ছেড়ে

ট্রেনের জালানার পাশের সিটে বসে আছি। আমার পাশের যাত্রী আসবে এটা ভেবে ভেবেই কেটে গেল ৪টা ঘন্টা। ট্রেন চলছে অবিরাম গতিতে; সবুজতা ছেড়ে ইট পাথরের শহরে। জানালার পাশে ঠেস দিয়ে আমার চিন্তার জগতও অবিরাম চলছে।


বাড়ির সামনে সবাইকে বিদায় জানিয়ে হেটে কিছুদুর গিয়ে গাড়িতে উঠব এই ভেবে হাটা শুরু করলাম। মা প্রথমে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও আমি কয়েক ফুট সামনে এগোতেই মা পিছন পিছন আসা শুরু করলেন। বারণ করলাম না এসে বাড়িতে যেতে কারণ টানা ২/৩ দিনের বৃষ্টিটা খানিক বিরতি দিয়ে আবার শুরু হওয়ার উপক্রম। মা পিছন পিছন এসে গাড়িতে তুলে দিয়ে তবেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন যা গাড়ির পিছন দিয়ে উপলব্ধি করলাম। 



স্টেশনে নেমে ট্রেনের উদ্দেশ্যে প্লাটফর্ম এ অপেক্ষা করতে লাগলাম। আর মাত্র ২০ মিনিট সময় এরপরই শুরু হবে কংক্রিটের দিকে যাত্রা। ট্রেনে উঠেই ঠান্ডায় ত্রাহি অবস্থা তাই ব্যাগ থেকে ঠান্ডা নিবারণের সামগ্রী বের করে গায়ে জড়িয়ে ধরলাম। মাকে মনে পড়ল; কিছুটা সময় কেন যেন আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলাম। 


নিজেকে সামলে নিয়ে পাশের যাত্রীর কথা কানে দিলাম; কত স্বপ্ন, কত আশা, কতই না ছুটে চলা। মাত্রই জমিটার বায়না দিয়েছেন তিনি, সেখানে কত কিছু করবেন তার মহা পরিকল্পনা চলছে। পাশের আরেক যাত্রী নিজের সমস্যার কথা কাকে যেন খুলে বলছেন; বেশ জোড়ে জোড়ে কথাগুলো বলছেন তাই স্পষ্টই শোনা যাচ্ছে। আরেক যাত্রী নিজের হারিয়ে যাওয়া অতীত নিয়ে কার সাথে যেন স্মৃতিচারণ করছেন। আফসোস এবং প্রাপ্তির ঢেকুর সমানতালে চলছে। সামনের কয়েকজন যাত্রী একটা গ্রুপ হয়ে খোশ গল্প, আর বাদামে বুদ।


এই যে জানালার পাশের সবুজ পৃথিবীটাকে পিছনে ফেলে ইট পাথরের শহরের দিকে অবিরাম যাত্রা সেই সবুজেই একদিন ফিরে আসব শান্ত হয়ে। একদিন দুইদিন কতই না স্মৃতি চারণ হবে। কতই না আফসোস করবে মানুষ আবার মন ভরে ঘৃণাও প্রকাশ করতে দ্বিধা হবে না।


ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এ মাত্র ৩ দিনের জন্য এসে কতই না পরিকল্পনা ছিল। ৩ দিনের মধ্যে এটা করব ওটা করব, এখানে যাব ওখানে যাব ইত্যাদি। কিন্তু আমার ইচ্ছাই কি সব??? রোদে পুড়ে যাওয়া রোপাগুলো যখন প্রায় মরতে বসেছে তখন আল্লাহ তায়ালা রহমতের বৃষ্টি ঝরিয়ে দিচ্ছেন জমিনে। তার রহমতের বৃষ্টিতে ২দিনের মধ্যে রোপাগুলো আবার সবুজে ছেয়ে যাচ্ছে।


আমাদের কারোরই ইচ্ছায় সব কিছু হয় না। তাহলে কেন এত সংঘাত, কেন এত স্বার্থের পিছনে অবিরাম ছুটে চলা। কেনই বা নিজের মনুষ্যত্ব ত্যাগ করে জগতের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়া। নিজের মনুষ্যত্বকে কলুষিত না করে নিজেকে মেলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক।


ভালবাসা ছড়িয়ে পড়ুক পরতে পরতে। 


ভালবাসা অবিরাম

Diarir Kotha - ডায়েরির কথা

Comments

Popular posts from this blog

আজ ৯ অক্টোবর ২০২৪

  ৯ অক্টোবর ২০১২। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আম্মা হু হু করে কাদছে, আব্বার চোখের কান্না ভেসে উঠছে। একে একে বড় বোন, মেঝ বোন, ছোট বোন, ছোট ভাই, বাডির অন্যান্যদের এবং নিকট প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। পঞ্চগড় থেকে রাত ৮টায় আহসান নামের একটা নন এসি গাড়িতে আমার গন্তব্য স্বপ্নের ঢাকা। আব্বা আমাকে গাড়িতে দেওয়ার জন্য পঞ্চগড় এ এলেন। আসলেন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে বিদায় দিলেন; এদিকে গাড়ি ছেড়ে দিল। শুরু হলো একটি ভয়ংকর সুন্দর, অনিশ্চিত কিন্তু একরাশ স্বপ্নের পথে যাত্রা। রাতের রাস্তার পাশের বাতিগুলোকে স্বাক্ষী রাখতে সারারাত চোখ বন্ধ না করেই দোকান, ভবন, অফিস, হাসপাতাল ইত্যাদির নাম/সাইনবোর্ড পড়তে পড়তে হাজার ঘণ্টার জার্নি শেষ করে ঢাকা মানিকনগর এ নামলাম। আমার পাশের এলাকার রমজান আলী ভাই আমাকে রিসিভ করার জন্য ঢাকা সায়েদাবাদ এর একটু আগে মানিকনগর এ অপেক্ষা করছেন। আমি গাড়ি থেকে নামতেই তিনি আমাকে রিসিভ করে নিয়ে গেলেন মানিকনগর বিশ্বরোড থেকে ২০০ গজ ভিতরের একটা মেসে। সেখানে একসাথে থাকেন এলাকারই বড় ভাই সাদ্দাম, আলমগীর, মানিক, শিমুল, মাহামুদুল এবং রমজান ভাই। প্রথম দেখায় সবাই আমাকে আ...

রিজিকের মালিক আল্লাহ

  একমাত্র বউ😀 এবং কন্যার চিন্তা মাথায় রেখেই গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসি। এ ছাড়া, করোনা মহামারীর কারণে ৪টা ঈদ পরিবারের সাথে করতে না পারার গ্লানি কমানোর উদ্দেশ্যে বউ এবং কন্যাকে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নাই। ঢাকায় ছাত্রাবস্থায় রান্নায় হাতে খড়ি। জামালপুর কিংবা ময়মনসিংহ এর গুটিকয়েক বুয়ার হাতের রান্না গলাধঃকরণ করার থেকে আমার হাতের রান্না হাজার গুণ ভালই। ঢাকায় একা থাকার সুবাধে তাই অফিস থেকে ফিরে রান্নাটা নিজেকেই করতে হয় যেহেতু বুয়ার রান্না সচরাচর এড়িয়েই চলি। গতকাল ভেবে চিন্তেই একটু বেশি করে রান্না করেছি (স্বাদটা চমৎকার) যেহেতু পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আজকে গ্রামের বাড়ি যাব। গতকাল রাতে খাওয়া শেষে তরকারিটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার গরম করে খেয়ে অফিসে গিয়েছি। ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবস তাই ব্যস্ততাও বেশ। শাখার বেশিরভাগ সহকর্মী ঈদে টিকেট না পেয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুপুরের আগে বা পরেই বের হয়ে গিয়েছেন। কতিপয় জরুরি কাজের জন্য তাই আমাকে থেকে যেতে হলো। ওদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস যা রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশ...

গন্ধ, হিংসার গন্ধ

এক সাথে দুই বন্ধু পড়াশোনা করত। তাদের একজন বেশ মেধাবী অপরজন কোন মতে টাইপের ছাত্র। পরীক্ষার ফলাফলও তাই, ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। এখানে দুইজনের বাড়ি যদি কাছাকাছি হয় ১ম জনের স্বজনেরা বুক ফুলিয়েই বলবে আমাদের ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে আর অমুকের ছেলে 'টেনেটুনে'।  এরপর এ দুজন দুটি পৃথক কলেজে ভর্তি হলো। ১ম জন বিজ্ঞান বিভাগে, ২য় জন মানবিক বিভাগে। ভর্তির সাথে সাথেই মন্তব্য আসবে ওমুকের ছেলে 'টেমেটুনে' তাই মানবিকে ভর্তি হয়েছে। আমাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হবে তাই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকগণ বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গেল ভর্তি করানোর জন্য আমাদের ছেলের এতই চাহিদা।  কলেজ জীবনও শেষ। পরীক্ষার ফলাফলও আগের মতই। ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'।  স্নাতকে ১ম জন Medical এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাও মস্ত এক সরকারি মেডিকেল কলেজে। আর ২য় জন ইসলামের ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করছে মফস্বলের কোন এক এমপিওভুক্ত কলেজে। কোন মতে যে স্নাতক টেনেটুনে পাস করলেই চাকরি যোগাড়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বে। Medical এ পড়াশোনা না করলেও ত্রিশের বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে একটা হাসপাতালের রিসি...