Skip to main content

গন্ধ, হিংসার গন্ধ

এক সাথে দুই বন্ধু পড়াশোনা করত। তাদের একজন বেশ মেধাবী অপরজন কোন মতে টাইপের ছাত্র। পরীক্ষার ফলাফলও তাই, ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। এখানে দুইজনের বাড়ি যদি কাছাকাছি হয় ১ম জনের স্বজনেরা বুক ফুলিয়েই বলবে আমাদের ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে আর অমুকের ছেলে 'টেনেটুনে'। 


এরপর এ দুজন দুটি পৃথক কলেজে ভর্তি হলো। ১ম জন বিজ্ঞান বিভাগে, ২য় জন মানবিক বিভাগে। ভর্তির সাথে সাথেই মন্তব্য আসবে ওমুকের ছেলে 'টেমেটুনে' তাই মানবিকে ভর্তি হয়েছে। আমাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হবে তাই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকগণ বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গেল ভর্তি করানোর জন্য আমাদের ছেলের এতই চাহিদা। 


কলেজ জীবনও শেষ। পরীক্ষার ফলাফলও আগের মতই। ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। 

স্নাতকে ১ম জন Medical এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাও মস্ত এক সরকারি মেডিকেল কলেজে। আর ২য় জন ইসলামের ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করছে মফস্বলের কোন এক এমপিওভুক্ত কলেজে। কোন মতে যে স্নাতক টেনেটুনে পাস করলেই চাকরি যোগাড়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বে। Medical এ পড়াশোনা না করলেও ত্রিশের বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে একটা হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট এর চাকরি হয়েছে। সে তো বেজায় খুশি কারণ তার চাকরি হয়েছে। প্রথমদিন যোগদান করতে গিয়েই দেখা হয়ে গেল সেই বন্ধুর যে কিনা একই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার। বিশাল তার সেলারি। সমাজ এখানেও নাক চুলকাবে এই বলে যে আমার ছেলে অমুক হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আর অমুকের ছেলে রিসিপশনিস্ট।

উপরের কাল্পনিক কিন্তু বাস্তবিক কাহিনী তুলে প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমাদের মাঝে ভেদাভেদ কিভাবে ছড়িয়ে আছে আর কিভাবে তা মানুষে মানুষে লালিত হয় তা বুঝানোর জন্য। 


আমার কাছে বিশাল আলিশান বাড়ি থাকবে, কোন সমস্যা নাই কিন্তু অমুকের থাকলে আমার হিংসা হবে। আমি নামি দামি ব্রান্ডের কাপড় পড়ব কিন্তু অমুক শখ করে অনেক কষ্টে একটা ভাল শার্ট কিনলে বলব ফুটানি মারে। আমার বিল্ডিংয়ে কোন কুলি, বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, সবজি বিক্রেতা থাকতে পারবে না কিন্তু আমার বাড়ির ময়লা ঐ পরিচ্ছন্নতা কর্মীই পরিষ্কার করবে, স্টেশনে আমার ব্যাগটা ঐ কুলিই বহন করবে, আমার মজাদার রান্না ঐ বাবুর্চিই করবে কিংবা আমার বাড়িতে পারলে কোন সবজি বিক্রেতা আমার পছন্দ সই সবজি দিয়ে যাবে।  আমরা গন্ধ পাই,  হিংসার গন্ধ, যে গন্ধ আমরা নিজেরাই বহন করি। 


নিজেকে ভালোবাসতে হবে, অন্যকে ঘৃণা করে নয়। নিজেকে সময় দিতে হবে। আপনি যদি নিজেকে পছন্দ না করতে পারেন, ভালো না বাসতে পারেন তবে অন্যের কাছ থেকে কিভাবে তা আশা করবেন। মানুষ আপনাকে সেভাবেই দেখবে আপনি নিজেকে যেভাবে দেখেন। সুতরাং নিজেকে প্রথমে ভালোবাসুন। নিজের মনের মাঝে থাকা মন্দ চিন্তা, হিংসাত্মক মনোভাব কিংবা ভেদাভেদ গুলোকে বিদায় বলতে হবে। আপনার পাশে কাউকে  তখনই পাবেন যখন আপনি অন্যের পাশে থাকবেন। নিজের মেধা, সম্পদ, সম্পর্ক, ভালবাসাগুলোকে মন্দ বৈশিষ্ট্য ধারণের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে দিবেন না।

Comments

Popular posts from this blog

আজ ৯ অক্টোবর ২০২৪

  ৯ অক্টোবর ২০১২। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আম্মা হু হু করে কাদছে, আব্বার চোখের কান্না ভেসে উঠছে। একে একে বড় বোন, মেঝ বোন, ছোট বোন, ছোট ভাই, বাডির অন্যান্যদের এবং নিকট প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। পঞ্চগড় থেকে রাত ৮টায় আহসান নামের একটা নন এসি গাড়িতে আমার গন্তব্য স্বপ্নের ঢাকা। আব্বা আমাকে গাড়িতে দেওয়ার জন্য পঞ্চগড় এ এলেন। আসলেন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে বিদায় দিলেন; এদিকে গাড়ি ছেড়ে দিল। শুরু হলো একটি ভয়ংকর সুন্দর, অনিশ্চিত কিন্তু একরাশ স্বপ্নের পথে যাত্রা। রাতের রাস্তার পাশের বাতিগুলোকে স্বাক্ষী রাখতে সারারাত চোখ বন্ধ না করেই দোকান, ভবন, অফিস, হাসপাতাল ইত্যাদির নাম/সাইনবোর্ড পড়তে পড়তে হাজার ঘণ্টার জার্নি শেষ করে ঢাকা মানিকনগর এ নামলাম। আমার পাশের এলাকার রমজান আলী ভাই আমাকে রিসিভ করার জন্য ঢাকা সায়েদাবাদ এর একটু আগে মানিকনগর এ অপেক্ষা করছেন। আমি গাড়ি থেকে নামতেই তিনি আমাকে রিসিভ করে নিয়ে গেলেন মানিকনগর বিশ্বরোড থেকে ২০০ গজ ভিতরের একটা মেসে। সেখানে একসাথে থাকেন এলাকারই বড় ভাই সাদ্দাম, আলমগীর, মানিক, শিমুল, মাহামুদুল এবং রমজান ভাই। প্রথম দেখায় সবাই আমাকে আ...

রিজিকের মালিক আল্লাহ

  একমাত্র বউ😀 এবং কন্যার চিন্তা মাথায় রেখেই গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসি। এ ছাড়া, করোনা মহামারীর কারণে ৪টা ঈদ পরিবারের সাথে করতে না পারার গ্লানি কমানোর উদ্দেশ্যে বউ এবং কন্যাকে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নাই। ঢাকায় ছাত্রাবস্থায় রান্নায় হাতে খড়ি। জামালপুর কিংবা ময়মনসিংহ এর গুটিকয়েক বুয়ার হাতের রান্না গলাধঃকরণ করার থেকে আমার হাতের রান্না হাজার গুণ ভালই। ঢাকায় একা থাকার সুবাধে তাই অফিস থেকে ফিরে রান্নাটা নিজেকেই করতে হয় যেহেতু বুয়ার রান্না সচরাচর এড়িয়েই চলি। গতকাল ভেবে চিন্তেই একটু বেশি করে রান্না করেছি (স্বাদটা চমৎকার) যেহেতু পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আজকে গ্রামের বাড়ি যাব। গতকাল রাতে খাওয়া শেষে তরকারিটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার গরম করে খেয়ে অফিসে গিয়েছি। ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবস তাই ব্যস্ততাও বেশ। শাখার বেশিরভাগ সহকর্মী ঈদে টিকেট না পেয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুপুরের আগে বা পরেই বের হয়ে গিয়েছেন। কতিপয় জরুরি কাজের জন্য তাই আমাকে থেকে যেতে হলো। ওদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস যা রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশ...