Skip to main content

একটি আকস্মিক পরীক্ষা ও তার ফলাফল!!

চাকরির সুবাধে আগের ভার্সিটি ছেড়েছি তাও প্রায় ২ বছর হয়ে গেল। তৃতীয় বর্ষের শেষ সেমিস্টারের মিডটার্মের পরপরই ক্লাশ বন্ধ করতে হয়। পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারলে হয়ত আজ মাস্টার্সও শেষ হয়ে যেত। সমাজ-সংসারের অনেক কিছুই যে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ দিকে টিউশনিও ইদানিং অনীহা আর বাবার বড় ছেলেদের কাঁধের গন্ডারের চামড়ার চিহ্ন চাকরির খোঁজ করছিল মনে মনে। তাই ভার্সিটি ছেড়েই চাকরিতে যোগদান করেছি। 


আজ ১৭ জানুয়ারি ২০১৭। অন্যদিনের মত সকালটা শুরু হলেও মনের মধ্যে একটা অন্য রকম অনুভূতি কাজ করছিল এজন্য যে আজ আবার ক্লাশে হাজির হচ্ছি তবে নতুন ভার্সিটিতে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেক ভেবে ব্লু কালার শার্টের সাথে কালো প্যান্ট পড়লাম। চশমাটা কিছুদিন আগেই ভাগ্নেটা ভেঙে ফেলেছে। কম্পিউটারে কাজ করতে হয় তাই চশমাটা ব্যবহার করতাম। খুব জরুরি ছিল না তাই আর কেনা হয়নি। যাইহোক আয়নাটা অন্য দিনের থেকে আজকে একটু বেশি সময় নিয়েই দেখলাম। ৮.১০ বাজতেই বাসা থেকে বের হলাম অফিসের গাড়ি চলে এসেছে তাই। গাড়িতে বসে ভাবছি আর অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছি। অফিসে এদিন সময়টা ফুরাচ্ছিল না। কাজেও খুব একটা মন বসছিল না। সারাক্ষণ ভাবতে লাগলাম স্বাভাবিক সময় ফুরিয়ে এখন কেন জানি মনে হচ্ছে অস্বাভাবিক সময়ে আবার স্নাতকটা শুরু করলাম। সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হয়েছি ভেবে নার্ভাসটা আরো বেশি লাগছে এটা ভেবে যে না জানি কি ধরণের ক্লাশমেট পাই। আবার এটাও ভাবতে লাগলাম শুরুতো করেছি। পড়াশুনার কোন বয়স নাই। আর আমিতো এখনো ২১☺ এর কোটা ছুই নাই। সুতরাং টেনশনের কোন কারণ নাই।

৫ টায় অফিস থেকে বের হয়ে ৬.৩০ টায় আমাকে ক্লাশে উপস্থিত থাকতে হবে। অফিস থেকে ভার্সিটির দূরত্ব ৪ কি.মি এর মত। অফিসের গাড়ি🚌 যে রুট দিয়ে চলাচল করে সেই রুটেই আমার ক্যাম্পাস। আনুমানিক ৫.২০ টায় গাড়ি থেকে নেমে ২ মিনিট হাটঁতেই আমার ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে প্রথমবার ক্লাস করার উদ্দেশ্যে হাজির তাই মনে মনে কিছু একটা হচ্ছিল। ক্যাম্পাসের মেইন গেইট দিয়ে ঢুকতেই রিসিপশন। রিসিপশনে কথা বলেই ৪ তলায় সিঁড়ি বেয়ে চলে গেলাম। ক্লাশ রুম তখনো না খোলায় ক্যান্টিনে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আনুমানিক ৬টা বাজতেই আবার ক্লাশরুমে উঁকি মারতে দেখলাম ৩জন ছাত্র বসে আছে। এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলাম এটা আমার নির্ধারিত ব্যাচ কিনা। নিশ্চিত হয়ে সবার সাথে পরিচয় বিনিময় হলো। বাপ্পী, রাহাত আর ফাহাদ। সবাইকে বেশ ফুরফুরে লাগছিল। এক পর্যায়ে ভার্সিটির বিষয়ে ভাল-মন্দ কথা বিনিময় হলো।

এক পর্যায়ে একটা মেয়ে বিড়বিড় করতে করতে আসল মনে হচ্ছে খুব তাড়াহুড়ো করে আসতে হয়েছে। ঢুকতেই কেউ একজন দেরিতে আসার কারন জানতে চাইল। মেয়েটি উত্তর দিতে লাগল তার ছেলের নাকি জ্বর এজন্য আসতে দেরি হয়েছে তবে এখন ভাল আছে। ভাবতে লাগলাম সবাই কী বিবাহিত নাকি? যাইহোক ভাল মন নিয়েই অনেক কিছু ভাবতে ভাবতে শিক্ষক মহোদয়ের আগমন ঘটল। আজ আমার প্রথম ক্লাশ তাই শুধু আমারই পরিচয় জানতে চাইলেন। পরিচয় বিনিময়ে জানতে পারলাম শিক্ষকের নাম দেবদাস বিশ্বাস। পরিচয় পর্ব শেষেই জানতে পারলাম আজকে ক্লাশ টেস্ট আছে! আমারতো চোখে ছানাবড়া অবস্থা। জানলামই না স্যার কি পড়াচ্ছেন আর আজ টেস্ট! প্রথম এসেছি ক্লাশে সুতরাং কিছু বলারও নেই। মনটা ভার করে কলমের ক্যাপটা দিয়ে মাথা খোচাতে লাগলাম। বোর্ডে প্রশ্ন লিখে দিলেন স্যার "Write a short note on Drama".

ভাবলাম আগে পড়েছি Drama সম্পর্কে কিন্তু সেতো দুবছর আগের কথা! অনেক কিছুই মাথায় নেই এখন। এ কথা ভাবতে ভাবতে একটা দুটো করে word লিখা শুরু করলাম। লিখা শেষে ভাবলাম এই খাতা যেন স্যার ছাড়া অন্য কেউ না দেখেন আর আমাকেও আর না দেখান। পরীক্ষা শেষে নিজের মনের বিরুদ্ধে খাতা জমা দিলাম আর ভাবতে লাগলাম ইংরেজি লিখেছি কিছু একটা। সবাই মত বিনিময় করছে কার পরীক্ষা কেমন হলো। আমি আজ প্রথম ক্লাশে তাই আমাকে আর কেউ জিজ্ঞেস করল না। পরীক্ষার মানের কথা ভেবে মান বাচাঁনোর তাগিদে কারো সাথে কথা না বলে ভার্সিটি থেকে বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। গাড়িতে উঠেই ভাবতে লাগলাম আজ থেকে ২ বছর আগে যা পড়েছি এখনই তা মাথায় নেই!! যাইহোক যে পরীক্ষায় নিজে সন্তুষ্ট ছিলাম না ৩০% কিছুদিন পর জানতে পারলাম সে পরীক্ষায় ১৫ তে ১১ মার্কস পেয়েছি!!!!!

Comments

Popular posts from this blog

রিজিকের মালিক আল্লাহ

  একমাত্র বউ😀 এবং কন্যার চিন্তা মাথায় রেখেই গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসি। এ ছাড়া, করোনা মহামারীর কারণে ৪টা ঈদ পরিবারের সাথে করতে না পারার গ্লানি কমানোর উদ্দেশ্যে বউ এবং কন্যাকে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নাই। ঢাকায় ছাত্রাবস্থায় রান্নায় হাতে খড়ি। জামালপুর কিংবা ময়মনসিংহ এর গুটিকয়েক বুয়ার হাতের রান্না গলাধঃকরণ করার থেকে আমার হাতের রান্না হাজার গুণ ভালই। ঢাকায় একা থাকার সুবাধে তাই অফিস থেকে ফিরে রান্নাটা নিজেকেই করতে হয় যেহেতু বুয়ার রান্না সচরাচর এড়িয়েই চলি। গতকাল ভেবে চিন্তেই একটু বেশি করে রান্না করেছি (স্বাদটা চমৎকার) যেহেতু পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আজকে গ্রামের বাড়ি যাব। গতকাল রাতে খাওয়া শেষে তরকারিটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার গরম করে খেয়ে অফিসে গিয়েছি। ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবস তাই ব্যস্ততাও বেশ। শাখার বেশিরভাগ সহকর্মী ঈদে টিকেট না পেয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুপুরের আগে বা পরেই বের হয়ে গিয়েছেন। কতিপয় জরুরি কাজের জন্য তাই আমাকে থেকে যেতে হলো। ওদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস যা রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশ...

গন্ধ, হিংসার গন্ধ

এক সাথে দুই বন্ধু পড়াশোনা করত। তাদের একজন বেশ মেধাবী অপরজন কোন মতে টাইপের ছাত্র। পরীক্ষার ফলাফলও তাই, ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। এখানে দুইজনের বাড়ি যদি কাছাকাছি হয় ১ম জনের স্বজনেরা বুক ফুলিয়েই বলবে আমাদের ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে আর অমুকের ছেলে 'টেনেটুনে'।  এরপর এ দুজন দুটি পৃথক কলেজে ভর্তি হলো। ১ম জন বিজ্ঞান বিভাগে, ২য় জন মানবিক বিভাগে। ভর্তির সাথে সাথেই মন্তব্য আসবে ওমুকের ছেলে 'টেমেটুনে' তাই মানবিকে ভর্তি হয়েছে। আমাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হবে তাই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকগণ বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গেল ভর্তি করানোর জন্য আমাদের ছেলের এতই চাহিদা।  কলেজ জীবনও শেষ। পরীক্ষার ফলাফলও আগের মতই। ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'।  স্নাতকে ১ম জন Medical এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাও মস্ত এক সরকারি মেডিকেল কলেজে। আর ২য় জন ইসলামের ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করছে মফস্বলের কোন এক এমপিওভুক্ত কলেজে। কোন মতে যে স্নাতক টেনেটুনে পাস করলেই চাকরি যোগাড়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বে। Medical এ পড়াশোনা না করলেও ত্রিশের বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে একটা হাসপাতালের রিসি...