Skip to main content

আমি কিছু না বলে যাস্ট Shut Down

পৃথিবীর শীতলতম শহরেও জার্নি করার সময় কিছু আজব পাবলিক পাবেন যারা জানালা খুলে রাখবে। ধরুন প্রচন্ড ঠান্ডায় পাশের যাত্রী টাইটানিকে ধাক্কা খাওয়া বরফের সমান হয়ে যাচ্ছেন তাতেও তিনি ভ্রুক্ষেপহীন। এমন বহু জার্নির অভিজ্ঞতা হয়েছে। এক শীতে ট্রেনের শোভন চেয়ারে যাত্রাকালে পাশে দুজন ভদ্র মহিলা আগ্নেয়গিরির আগুন নেভানোর জন্য জানালার গ্লাস খোলা রেখেছেন। আমি অনেকটা বাধ্য হয়ে বিশেষ করে ১.৫ বছরের বাচ্চার (আমার কন্যা) কথা চিন্তা করে ভদ্র মহিলাকে অনুনয় বিনয় করলে তিনি আমার প্রতি বেশ নাখোশ হলেন। হওয়ারই তো কথা। তিনিও তো টাকা দিয়েই টিকেট নিয়েছেন। আর জাতি হিসেবে এইটুকু "স্বাধীনতা" তো তার আছেই না হলে তা কিভাবে আদায় করতে হয় সেটা জানা থাকারই কথা।

আরেক শীতে বাসে জার্নির সময় আমি "রক্ত শূন্যতার" অভাবে ভোগা আম জনতা ঠান্ডায় কাবু হলেও আমার সামনের সিটে বসা ভদ্রমহিলাও আগ্নেয়গিরির আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত। রাতের সময় হওয়ায় বেশ ঠান্ডা লাগছিল তাই রিকুয়েষ্ট করলাম বাসের জানালা বন্ধ রাখতে। এবারও রিপ্লাই আসল ভেবাচেকা। আসারই কথা কারণ উনিও তো টাকা দিয়েই টিকেট নিয়েছেন। বিড়বিড় করে কিছু একটা বলতে লাগল শুধু এটাই বুঝলাম আমি নাকি রক্ত শূন্যতায় ভুগছি। কী আর করার জ্যাকেটটাকে চেপে ধরে কোনমতে ১১ ঘন্টার জার্নিটা শেষ করলাম।




এবার বলি আজকের অভিজ্ঞতার কথা। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি প‌রিবর্তন ক‌রে পুরোনো ও জরাজীর্ণ বগি দেওয়া হয়েছে যা ১৭ বছরের পুরনো। দেশের সর্বোচ্চ দূরত্বের রেলপথে বিরতিহীন এই ট্রেনের ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বগি পরিবর্তন করে পুরোনো বগি দেওয়া হয়েছে। বগিগুলো লক্কর-ঝক্কর। এর সিটগুলো এতটাই সংকীর্ণ যে বসতে গেলে সিটের সঙ্গে হাঁটু আটকে যায় বিশেষ করে আমার মত ছয় ফুটের বেশি উচ্চতার মানুষের জন্য তা ঢাকার লোকাল বাসের সমান।

পঞ্চগড় এক্সপ্রেস যা দুপুর ১২.২০ এ পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় তার স্নিগ্ধার ১টি সিট নিয়েছি যেহেতু স্ত্রী কন্যাকে বাড়িতে রেখে যাব। নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর ট্রেন ছাড়ল। ট্রেনের বগি ঠান্ডা হচ্ছে না। এদিকে প্রখর রোদের গরমে অবস্থা কাহিল। এসি বগির জানালা খোলা রাখায় গ্লাস ভেদ করে রোদের প্রচন্ড গরমে ট্রেনের বগিও গরম হয়ে থাকছে।

পঞ্চগড় থেকে ঢাকা গামী ট্রেনের ডানপাশে আমার সিট হওয়ায় গরমটা বেশ ভালই টের পাচ্ছিলাম, এসি বগিতে বসেও হালকা ঘামছিলাম। ট্রেনের দায়িত্বে থাকা দুজন এসে সবাইকে অনুরোধ করলেন জানালা পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখতে। আমিও সামনে পিছনে থাকা যাত্রীদের অনুরোধ করলাম। কিন্তু বিধিবাম ; আমার পিছনে থাকা ভদ্র মহিলা বলে বসলেন "আপনার পাশের পর্দা আপনি ঢেকে রাখেন। আমার আলোর প্রয়োজন।"

আমি কিছু না বলে যাস্ট Shut Down

 @Sopnil Yeakub

Comments

Popular posts from this blog

রিজিকের মালিক আল্লাহ

  একমাত্র বউ😀 এবং কন্যার চিন্তা মাথায় রেখেই গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসি। এ ছাড়া, করোনা মহামারীর কারণে ৪টা ঈদ পরিবারের সাথে করতে না পারার গ্লানি কমানোর উদ্দেশ্যে বউ এবং কন্যাকে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নাই। ঢাকায় ছাত্রাবস্থায় রান্নায় হাতে খড়ি। জামালপুর কিংবা ময়মনসিংহ এর গুটিকয়েক বুয়ার হাতের রান্না গলাধঃকরণ করার থেকে আমার হাতের রান্না হাজার গুণ ভালই। ঢাকায় একা থাকার সুবাধে তাই অফিস থেকে ফিরে রান্নাটা নিজেকেই করতে হয় যেহেতু বুয়ার রান্না সচরাচর এড়িয়েই চলি। গতকাল ভেবে চিন্তেই একটু বেশি করে রান্না করেছি (স্বাদটা চমৎকার) যেহেতু পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আজকে গ্রামের বাড়ি যাব। গতকাল রাতে খাওয়া শেষে তরকারিটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার গরম করে খেয়ে অফিসে গিয়েছি। ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবস তাই ব্যস্ততাও বেশ। শাখার বেশিরভাগ সহকর্মী ঈদে টিকেট না পেয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুপুরের আগে বা পরেই বের হয়ে গিয়েছেন। কতিপয় জরুরি কাজের জন্য তাই আমাকে থেকে যেতে হলো। ওদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস যা রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশ...

গন্ধ, হিংসার গন্ধ

এক সাথে দুই বন্ধু পড়াশোনা করত। তাদের একজন বেশ মেধাবী অপরজন কোন মতে টাইপের ছাত্র। পরীক্ষার ফলাফলও তাই, ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। এখানে দুইজনের বাড়ি যদি কাছাকাছি হয় ১ম জনের স্বজনেরা বুক ফুলিয়েই বলবে আমাদের ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে আর অমুকের ছেলে 'টেনেটুনে'।  এরপর এ দুজন দুটি পৃথক কলেজে ভর্তি হলো। ১ম জন বিজ্ঞান বিভাগে, ২য় জন মানবিক বিভাগে। ভর্তির সাথে সাথেই মন্তব্য আসবে ওমুকের ছেলে 'টেমেটুনে' তাই মানবিকে ভর্তি হয়েছে। আমাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হবে তাই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকগণ বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গেল ভর্তি করানোর জন্য আমাদের ছেলের এতই চাহিদা।  কলেজ জীবনও শেষ। পরীক্ষার ফলাফলও আগের মতই। ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'।  স্নাতকে ১ম জন Medical এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাও মস্ত এক সরকারি মেডিকেল কলেজে। আর ২য় জন ইসলামের ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করছে মফস্বলের কোন এক এমপিওভুক্ত কলেজে। কোন মতে যে স্নাতক টেনেটুনে পাস করলেই চাকরি যোগাড়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বে। Medical এ পড়াশোনা না করলেও ত্রিশের বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে একটা হাসপাতালের রিসি...

একটি আকস্মিক পরীক্ষা ও তার ফলাফল!!

চাকরির সুবাধে আগের ভার্সিটি ছেড়েছি তাও প্রায় ২ বছর হয়ে গেল। তৃতীয় বর্ষের শেষ সেমিস্টারের মিডটার্মের পরপরই ক্লাশ বন্ধ করতে হয়। পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারলে হয়ত আজ মাস্টার্সও শেষ হয়ে যেত। সমাজ-সংসারের অনেক কিছুই যে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ দিকে টিউশনিও ইদানিং অনীহা আর বাবার বড় ছেলেদের কাঁধের গন্ডারের চামড়ার চিহ্ন চাকরির খোঁজ করছিল মনে মনে। তাই ভার্সিটি ছেড়েই চাকরিতে যোগদান করেছি।  আজ ১৭ জানুয়ারি ২০১৭। অন্যদিনের মত সকালটা শুরু হলেও মনের মধ্যে একটা অন্য রকম অনুভূতি কাজ করছিল এজন্য যে আজ আবার ক্লাশে হাজির হচ্ছি তবে নতুন ভার্সিটিতে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেক ভেবে ব্লু কালার শার্টের সাথে কালো প্যান্ট পড়লাম। চশমাটা কিছুদিন আগেই ভাগ্নেটা ভেঙে ফেলেছে। কম্পিউটারে কাজ করতে হয় তাই চশমাটা ব্যবহার করতাম। খুব জরুরি ছিল না তাই আর কেনা হয়নি। যাইহোক আয়নাটা অন্য দিনের থেকে আজকে একটু বেশি সময় নিয়েই দেখলাম। ৮.১০ বাজতেই বাসা থেকে বের হলাম অফিসের গাড়ি চলে এসেছে তাই। গাড়িতে বসে ভাবছি আর অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছি। অফিসে এদিন সময়টা ফুরাচ্ছিল না। কাজেও খুব একটা মন বসছিল না। সারাক্ষণ ভাবতে লাগলাম স্বাভাবিক সময় ফুরিয়ে ...