Skip to main content

বিবাহ বার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ

২০১৮ সালের ঈদুল ফিতরের দিনের কথা। বন্ধুকে নিয়ে রওনা হলাম চোখে না দেখা আরেক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে। মা-বাবার বাধ্যগত সন্তান হিসেবে আগে কখনো অচেনা জায়গায় যাওয়া হয় নাই। নিজেকে আমি বরাবরের মতই তথাকথিত আনস্মার্ট লুকেই ভালবাসি। খোদা প্রদত্ত চেহারা খানা নিয়ে আয়নার সামনে এমনিতেও খুব একটা যাওয়া হয় না। গাঢ় নীল কালারের একটা পাঞ্জাবি, জিন্স আর স্যান্ডেল পড়ে বেড়াতে যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বের হলাম।

আমার বাড়ি থেকে ১ কি.মি. এর মধ্যে মহাসড়ক, ১৫ কি.মি. দূরে জেলা সদর সেখান থেকে ১০ কি.মি. দূরে ছিল সেদিনের গন্তব্য। বাড়ি থেকে হেটে অমরখানা বাজার সেখান থেকে ১০০ গজের মধ্যেই মহাসড়ক। ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সায় করে পঞ্চগড় জেলা শহর পৌছে ফোনে জেনে নিলাম সেখান থেকে যাওয়ার উপায়। সরাসরি পৌছানোর বাহন না পেয়ে ৫-৬ কি.মি. পর আমকাঠাল নামক একটা ছোট্ট বাজার পর্যন্ত অটো রিক্সায় করে গেলাম।

বিপত্তি বাধল এখানে পৌছানোর পর। শতভাগ বিদ্যুৎ এর দেশে আমার জেলায় (প্রায় পুরো অংশে) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ২৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল না মানে লোডশেডিং যা আমরা এখন অফিশিয়ালি পাচ্ছি।
আমকাঠাল নেমে প্রায় ২ ঘন্টা অপেক্ষা করেও কোন গাড়ি, রিক্সা, ভ্যান কিছুই পেলাম না কারণ একটাই বিদ্যুৎ চালিত গাড়িসমূহে চার্জ নাই। আর ঐ রোডে বিদ্যুৎ চালিত অটো রিক্সা ব্যতীত অন্য কোম যানবাহন চলত না। এদিকে পঞ্চগড় ফিরে আসার উপায় নাই। অনেকটা মনের জিদ থেকেই সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে গন্তব্যে পৌছেই বাড়ি ফিরব। প্রায় ২.৩০ ঘন্টা পর সাথে থাকা বন্ধুর পরিচিত এক বড় ভাই যাচ্ছিল বাইক নিয়ে সেই রোডেই যেদিকে আমরা যাব। রিকুয়েষ্ট করার আগেই অফার পেলাম গন্তব্যে পৌছে দেয়ার। যারপরনাই খুশি হয়ে বাইকে ঠেসে গেলাম।
জেলা শহর থেকে ৩০ মিনিটের পথ প্রায় ৩ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর পৌছালাম। তারপর কাঙ্ক্ষিত মানুষের সাথে দেখা, পরিবারের সাথে সদালাপ, আপ্যায়ন, মনের মধ্যকার হাজার প্রশ্নের জবাব এবং দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। ঈদুল আজহা ২০১৮ তে পারিবারিক সাক্ষাত, এবং ২৭ আগস্ট ২০১৮ তে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ।
আজ ২৭ আগস্ট, আলহামদুলিল্লাহ বিবাহিত জীবনের ৪ বছর পূর্ণ হলো। এটা নাকি আমাদের ৪র্থ বিবাহ বার্ষিকী যদিও বউ কিংবা আমি এসব বিবাহ বার্ষিকীতে খুব বেশি ইন্টারেস্টেড না বরং প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাছে আরো রঙিন, আরো সবুজ, আরো স্বরণীয়।
আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি।
দোয়ার দরখাস্ত রইল

Comments

Popular posts from this blog

রিজিকের মালিক আল্লাহ

  একমাত্র বউ😀 এবং কন্যার চিন্তা মাথায় রেখেই গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসি। এ ছাড়া, করোনা মহামারীর কারণে ৪টা ঈদ পরিবারের সাথে করতে না পারার গ্লানি কমানোর উদ্দেশ্যে বউ এবং কন্যাকে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নাই। ঢাকায় ছাত্রাবস্থায় রান্নায় হাতে খড়ি। জামালপুর কিংবা ময়মনসিংহ এর গুটিকয়েক বুয়ার হাতের রান্না গলাধঃকরণ করার থেকে আমার হাতের রান্না হাজার গুণ ভালই। ঢাকায় একা থাকার সুবাধে তাই অফিস থেকে ফিরে রান্নাটা নিজেকেই করতে হয় যেহেতু বুয়ার রান্না সচরাচর এড়িয়েই চলি। গতকাল ভেবে চিন্তেই একটু বেশি করে রান্না করেছি (স্বাদটা চমৎকার) যেহেতু পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আজকে গ্রামের বাড়ি যাব। গতকাল রাতে খাওয়া শেষে তরকারিটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার গরম করে খেয়ে অফিসে গিয়েছি। ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবস তাই ব্যস্ততাও বেশ। শাখার বেশিরভাগ সহকর্মী ঈদে টিকেট না পেয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুপুরের আগে বা পরেই বের হয়ে গিয়েছেন। কতিপয় জরুরি কাজের জন্য তাই আমাকে থেকে যেতে হলো। ওদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস যা রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশ...

গন্ধ, হিংসার গন্ধ

এক সাথে দুই বন্ধু পড়াশোনা করত। তাদের একজন বেশ মেধাবী অপরজন কোন মতে টাইপের ছাত্র। পরীক্ষার ফলাফলও তাই, ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। এখানে দুইজনের বাড়ি যদি কাছাকাছি হয় ১ম জনের স্বজনেরা বুক ফুলিয়েই বলবে আমাদের ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে আর অমুকের ছেলে 'টেনেটুনে'।  এরপর এ দুজন দুটি পৃথক কলেজে ভর্তি হলো। ১ম জন বিজ্ঞান বিভাগে, ২য় জন মানবিক বিভাগে। ভর্তির সাথে সাথেই মন্তব্য আসবে ওমুকের ছেলে 'টেমেটুনে' তাই মানবিকে ভর্তি হয়েছে। আমাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হবে তাই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকগণ বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গেল ভর্তি করানোর জন্য আমাদের ছেলের এতই চাহিদা।  কলেজ জীবনও শেষ। পরীক্ষার ফলাফলও আগের মতই। ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'।  স্নাতকে ১ম জন Medical এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাও মস্ত এক সরকারি মেডিকেল কলেজে। আর ২য় জন ইসলামের ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করছে মফস্বলের কোন এক এমপিওভুক্ত কলেজে। কোন মতে যে স্নাতক টেনেটুনে পাস করলেই চাকরি যোগাড়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বে। Medical এ পড়াশোনা না করলেও ত্রিশের বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে একটা হাসপাতালের রিসি...

একটি আকস্মিক পরীক্ষা ও তার ফলাফল!!

চাকরির সুবাধে আগের ভার্সিটি ছেড়েছি তাও প্রায় ২ বছর হয়ে গেল। তৃতীয় বর্ষের শেষ সেমিস্টারের মিডটার্মের পরপরই ক্লাশ বন্ধ করতে হয়। পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারলে হয়ত আজ মাস্টার্সও শেষ হয়ে যেত। সমাজ-সংসারের অনেক কিছুই যে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ দিকে টিউশনিও ইদানিং অনীহা আর বাবার বড় ছেলেদের কাঁধের গন্ডারের চামড়ার চিহ্ন চাকরির খোঁজ করছিল মনে মনে। তাই ভার্সিটি ছেড়েই চাকরিতে যোগদান করেছি।  আজ ১৭ জানুয়ারি ২০১৭। অন্যদিনের মত সকালটা শুরু হলেও মনের মধ্যে একটা অন্য রকম অনুভূতি কাজ করছিল এজন্য যে আজ আবার ক্লাশে হাজির হচ্ছি তবে নতুন ভার্সিটিতে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেক ভেবে ব্লু কালার শার্টের সাথে কালো প্যান্ট পড়লাম। চশমাটা কিছুদিন আগেই ভাগ্নেটা ভেঙে ফেলেছে। কম্পিউটারে কাজ করতে হয় তাই চশমাটা ব্যবহার করতাম। খুব জরুরি ছিল না তাই আর কেনা হয়নি। যাইহোক আয়নাটা অন্য দিনের থেকে আজকে একটু বেশি সময় নিয়েই দেখলাম। ৮.১০ বাজতেই বাসা থেকে বের হলাম অফিসের গাড়ি চলে এসেছে তাই। গাড়িতে বসে ভাবছি আর অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছি। অফিসে এদিন সময়টা ফুরাচ্ছিল না। কাজেও খুব একটা মন বসছিল না। সারাক্ষণ ভাবতে লাগলাম স্বাভাবিক সময় ফুরিয়ে ...