Skip to main content

সুখের সংজ্ঞা, অনুভূতি ও পরিমাপের পদ্ধতি

বন্ধু কিংবা পরিচিত কয়েকজনদের সাথে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় অনেকেই বলে বসে আমি নাকি তাদের থেকে বেশি সুখী। আমি মাঝে মাঝে অবাকই হই সুখকে কিভাবে Compare করা যায়। বা সুখী হতে কি প্রয়োজন? আমরা জানি বিল গেটস পৃথিবীর অন্যতম সেরা ধনী। কয়েকবার শ্রেষ্ঠ ধনীও হয়েছেন। কিন্তু বিল মামায় এমন কোন বিল দিতে না পারায় তার স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হলো এটা নিয়ে ভাবি। যাইহোক তাদেরও ভাবনার জায়গা আছে যেখান থেকে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। এখন আমার খুব কিউরিওসিটি সুখের বিষয়ে। আচ্ছা সুখ কি?

সুখের সংজ্ঞা খুজতে প্রথমে গুগল মামাকে জিজ্ঞেস করলাম মামা সুখ কি? গুগল মামা অনেকের কাছে আমাকে পাঠাল। তারা তাদের মত করে সুখ কি জিনিস সেটা আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করল। তাদের মধ্যে একজনের কথাটা ঠিক এরকম যে, সুখ একটি মানবিক অনুভূতি। সুখ মনের একটি অবস্থা বা অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
যত বড় নিক্তি/একক দিয়েই মাপুন না কেন সঠিকভাবে সুখ পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন।
সমাজে ধনী, গরিব, সুখী, অসুখী; বিভিন্ন ধাঁচের মানুষের বসবাস। সকলেই সুখী হতে পারে না। তবে সুখী হতে পয়সা লাগে না। নিজের ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই সুখী হওয়া সম্ভব। নিজের যতটুকু আছে তন্মধ্যে সন্তুষ্ট থাকলে, আনন্দ খুঁজে পেলে সুখী হওয়া কঠিন কিছু না। সুখ পুরোপুরি বহিরাগত বিষয় নয় এমনকি মুহূর্তের আনন্দ থেকেও তা প্রাপ্ত হয় না ।
বিশ্বাস করি সুখ কোনো বিশেষ জায়গায় নয়, সুখ নির্ভর করে কীভাবে আপনি জীবন যাপন করেন তার ওপর। আপনি কিসের ওপর বেশি মূল্য দেন? অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা, সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা? এই মুহূর্তে কী আপনাকে সুখী করতে পারে? এসব বিষয়ে একেকজনের একেক মত থাকবে। যেমন ধরুন কিছুদিন আগে এক আড্ডায় আলোচনা হচ্ছে। আমার এক বন্ধু বলেই বসল যে আমার যদি কাড়ি কাড়ি টাকা থাকত তাহলে আমি সুখী হতাম বা যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে জীবনকে সাজাতাম। আচ্ছা অর্থ থাকলেই কি নিজের মত করে জীবনকে সাজানো যায়? যদি তাই হতো তাহলে ধনী ব্যক্তিদের বিবাহ বিচ্ছেদ হতো না, তাদের ক্যান্সার হতো না, হতাশায় আত্মহত্যা করতেন না কিংবা একাকিত্ব বোধ করতেন না। আবার অনেক মানুষ ধন সম্পদ ছাড়াই সুখী। তা ছাড়া যা আপনাকে সুখী করবে তা অন্যকে না–ও করতে পারে। তবে এত কিছু সত্ত্বেও পজিটিভ সাইকোলজি বলে, আমরা সুখ সৃষ্টি করতে পারি, সুখ বৃদ্ধি করতে পারি এবং নিশ্চিতভাবে সুখী হতে পারি। আর তা নির্ভর করে একান্তই ব্যক্তির উপর।
ধনী কিংবা সুখী হওয়ার অন্যতম সহজ উপায় হলো অল্প আকাঙ্খা পোষণ করা। নিজেকে প্রায়ই ধনী কিংবা সুখী মনে করি জানি না আমার এই মনে করার পিছনের লজিক কী। তবে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি একসঙ্গে থাকা মানুষেরাই সুখী মানুষ। আপনার মত কী?

Comments

Popular posts from this blog

আজ ৯ অক্টোবর ২০২৪

  ৯ অক্টোবর ২০১২। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আম্মা হু হু করে কাদছে, আব্বার চোখের কান্না ভেসে উঠছে। একে একে বড় বোন, মেঝ বোন, ছোট বোন, ছোট ভাই, বাডির অন্যান্যদের এবং নিকট প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। পঞ্চগড় থেকে রাত ৮টায় আহসান নামের একটা নন এসি গাড়িতে আমার গন্তব্য স্বপ্নের ঢাকা। আব্বা আমাকে গাড়িতে দেওয়ার জন্য পঞ্চগড় এ এলেন। আসলেন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে বিদায় দিলেন; এদিকে গাড়ি ছেড়ে দিল। শুরু হলো একটি ভয়ংকর সুন্দর, অনিশ্চিত কিন্তু একরাশ স্বপ্নের পথে যাত্রা। রাতের রাস্তার পাশের বাতিগুলোকে স্বাক্ষী রাখতে সারারাত চোখ বন্ধ না করেই দোকান, ভবন, অফিস, হাসপাতাল ইত্যাদির নাম/সাইনবোর্ড পড়তে পড়তে হাজার ঘণ্টার জার্নি শেষ করে ঢাকা মানিকনগর এ নামলাম। আমার পাশের এলাকার রমজান আলী ভাই আমাকে রিসিভ করার জন্য ঢাকা সায়েদাবাদ এর একটু আগে মানিকনগর এ অপেক্ষা করছেন। আমি গাড়ি থেকে নামতেই তিনি আমাকে রিসিভ করে নিয়ে গেলেন মানিকনগর বিশ্বরোড থেকে ২০০ গজ ভিতরের একটা মেসে। সেখানে একসাথে থাকেন এলাকারই বড় ভাই সাদ্দাম, আলমগীর, মানিক, শিমুল, মাহামুদুল এবং রমজান ভাই। প্রথম দেখায় সবাই আমাকে আ...

রিজিকের মালিক আল্লাহ

  একমাত্র বউ😀 এবং কন্যার চিন্তা মাথায় রেখেই গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসি। এ ছাড়া, করোনা মহামারীর কারণে ৪টা ঈদ পরিবারের সাথে করতে না পারার গ্লানি কমানোর উদ্দেশ্যে বউ এবং কন্যাকে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নাই। ঢাকায় ছাত্রাবস্থায় রান্নায় হাতে খড়ি। জামালপুর কিংবা ময়মনসিংহ এর গুটিকয়েক বুয়ার হাতের রান্না গলাধঃকরণ করার থেকে আমার হাতের রান্না হাজার গুণ ভালই। ঢাকায় একা থাকার সুবাধে তাই অফিস থেকে ফিরে রান্নাটা নিজেকেই করতে হয় যেহেতু বুয়ার রান্না সচরাচর এড়িয়েই চলি। গতকাল ভেবে চিন্তেই একটু বেশি করে রান্না করেছি (স্বাদটা চমৎকার) যেহেতু পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আজকে গ্রামের বাড়ি যাব। গতকাল রাতে খাওয়া শেষে তরকারিটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার গরম করে খেয়ে অফিসে গিয়েছি। ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবস তাই ব্যস্ততাও বেশ। শাখার বেশিরভাগ সহকর্মী ঈদে টিকেট না পেয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুপুরের আগে বা পরেই বের হয়ে গিয়েছেন। কতিপয় জরুরি কাজের জন্য তাই আমাকে থেকে যেতে হলো। ওদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস যা রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশ...

গন্ধ, হিংসার গন্ধ

এক সাথে দুই বন্ধু পড়াশোনা করত। তাদের একজন বেশ মেধাবী অপরজন কোন মতে টাইপের ছাত্র। পরীক্ষার ফলাফলও তাই, ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। এখানে দুইজনের বাড়ি যদি কাছাকাছি হয় ১ম জনের স্বজনেরা বুক ফুলিয়েই বলবে আমাদের ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে আর অমুকের ছেলে 'টেনেটুনে'।  এরপর এ দুজন দুটি পৃথক কলেজে ভর্তি হলো। ১ম জন বিজ্ঞান বিভাগে, ২য় জন মানবিক বিভাগে। ভর্তির সাথে সাথেই মন্তব্য আসবে ওমুকের ছেলে 'টেমেটুনে' তাই মানবিকে ভর্তি হয়েছে। আমাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হবে তাই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকগণ বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গেল ভর্তি করানোর জন্য আমাদের ছেলের এতই চাহিদা।  কলেজ জীবনও শেষ। পরীক্ষার ফলাফলও আগের মতই। ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'।  স্নাতকে ১ম জন Medical এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাও মস্ত এক সরকারি মেডিকেল কলেজে। আর ২য় জন ইসলামের ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করছে মফস্বলের কোন এক এমপিওভুক্ত কলেজে। কোন মতে যে স্নাতক টেনেটুনে পাস করলেই চাকরি যোগাড়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বে। Medical এ পড়াশোনা না করলেও ত্রিশের বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে একটা হাসপাতালের রিসি...