Skip to main content

ইনজুরি, মেডিসিন ও ওজন বৃদ্ধি: সময়/অসময়

 স্বপ্নীল স্বাস্থ্যটা তোমার ফুলতেছে কেন হঠাৎ? কিংবা ভালই মোটা হইছো আগের থেকে!! অবাক হয়েছি বেশি (হাসছিও অনেক) যখন আম্মা বলেন "ব্যাটা সকালে ঘুম থেকে উঠে দৌড়াবা পাড়িস না???"


ইদানীং এই কথাগুলো প্রায়শ শুনি। ভালই লাগে ছয়ফুট তদূর্ধ্ব হাড্ডিসার শরীরে ধীরে ধীরে মাংস জমানো হয়েছে। তবে আত্মতুষ্টি যে নেই সেটা ব্যাখ্যা সহকারে কাউকে বোঝানোর চেষ্টা করিনি।


ঘটনার শুরুর তারিখটা সম্ভবত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। সাল ও মাস নিশ্চিত হলেও তারিখটা ২/১ দিন আগে বা পরে হবে। অফিসের জরুরি কাজের জন্য পাশের অফিসের সিড়িতে তড়িঘড়ি করে উঠতে গিয়ে সিড়িতে পড়ে দুই হাটুতে কিছুটা ব্যথা পাই। খুবই সাধারণ মনে করে অফিসের সহকারী সার্জনের নিকট থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে খাল্লাস। তিনি (ডাক্তার) হাটুর এক্সরে করার নির্দেশনা দিলেও ঠুনকো ভেবে করা হয়নি।



সবই স্বাভাবিকভাবেই চলছিল কিন্তু মাস ৩/৪ পর হাটুর ব্যাথাটা আবার শুরু হলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমইএস), ঢাকায় একজন বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক্স চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি প্রেসক্রিপশনে কিছু টেস্ট ও ঔষুধ সাজেস্ট করেন। সবকিছু সম্পন্ন সাধারণ মনে করে তিনি ক্যালসিয়াম ও Chondroitin+Glucosamine সাজেস্ট করলে তা গ্রহণ করি নিয়ম মত। এদিকে ভারী কোন কাজ বা পরিশ্রম বা দৌড়াদৌড়ি বন্ধ এবং স্বাভাবিক উপায়ে নামাজ না পড়ে চেয়ারে বসে পড়ার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু সুফল সেভাবে পাচ্ছিলাম না। 


এরপর কতিপয় অফিস কলিগের পরামর্শে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান বা পঙ্গু হাসপাতালের একজন অর্থোপেডিক্স চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। তিনি অনেকটা আতকে উঠলেন এটা বলে যে এই বয়সে হাটুর এই ব্যাথাটা কিছুটা আতঙ্কের। তিনি মিনিট দশেক হিস্ট্রি নিলেন এবং কিছু মেডিসিন ও টেস্ট সাজেস্ট করলেন। টেস্টসমূহ সম্পন্ন করে আবার তার নিকট গেলে আগের মতই ক্যালসিয়াম ও Chondroitin+Glucosamine সাথে আরও কিছু মেডিসিন (নাম মনে নাই) এবং বেশকিছু নিয়ম বলে দিলেন সেভাবেই চলতে হবে। এখানেও ভারী কাজ, দৌড়াদৌড়ি বন্ধ এবং চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার পরামর্শ ইত্যাদি।


মাস তিনেক ঔষুধ গ্রহণের পর সবকিছু স্বাভাবিক মনেই হচ্ছিল। এর ফাকে পাহাড়, সাগড় ঘুরে আসলাম। পাহাড়ে উঠানামা করলেও পায়ের ব্যাথাটা মোটেও পাইনি। এভাবেই কেটে গেল বেশ লম্বা একটা সময়। যদিও ভারী ব্যায়াম, দৌড়াদৌড়ি তখনও খুব কমই, নাই বললেই চলে এই অবস্থায় চলছিল।


২০২৪ এর শুরুর দিক থেকে ব্যাথাটা বেশ বেড়ে যায় যা আগের থেকে বেশী। ব্যাথাটা স্বাভাবিক হাটা চলার সময় অনুভূত হত না তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কিংবা উচু জায়গা যেমন সিড়ি, রাস্তার ফুটপাথ থেকে নিচে নামার সময় বেশী অনুভূত হত। এবার অনেক খোজাখুজি করলাম।


একইভাবে এবারও এক কলিগের পরামর্শে বাংলাদেশ স্পাইন এন্ড অর্থোপেডিক হাসপাতালের চীফ সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. শাহ্‌ আলম এর শরণাপন্ন হই। তিনজন ডাক্তারের একটা বোর্ড ১০ মিনিটের মত সবকিছু যাচাই-বাছাই করে দুই হাটুর MRI ও X-Ray করতে বললেন। হাতে নগদ আট হাজার নিয়ে গেলেও রিপোর্ট এর মোট বিল আসল সতেরো হাজারের বেশি। এক অফিস কলিগের নিকট থেকে বাকি টাকা একাউন্টে নিয়ে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত থেকে ১ ঘন্টার MRI ও ১০ মিনিটের X-Ray শেষ করলাম। পরের দিন রিপোর্ট দেখালাম। তারা অনেকক্ষণ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। আমাকে অনেক কিছু বুঝালেন। এক হাটুতে Black Dot ধরা পড়েছে এবং Knee Osteoarthritis এর কথাও বললেন। অধ্যাপক ডা. মো. শাহ্‌ আলম নিশ্চিত করলেন সামান্য কিছু ইস্যু। তবে বেশ কয়েকটা মাস নিয়ম মাফিক চলতে হবে। ঔষুধ হিসেবে দিলেন CoralCal-DX এবং Arth-A Max ঔষুধ দিলেন আর কিছু নিয়ম+থেরাপি সাজেস্ট করলেন।


ব্যথাটা সবসময় খুবই সামান্য। শুধু হাটু ভাজ করার সময়, সিড়ি থেকে নামার সময় বা উচু জায়গা থেকে নামার সময়ই বেশী অনুভব হতো।


আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেকটা ভাল। ধীরে ধীরে সুস্থতা অনুভব করছি।


আসি হেডলাইনে। আমার এই তিন বছরের জার্নিতে ব্যায়াম বলতে কিছুই হয়নি। যে মানুষ প্রায় প্রতিদিন ৫ কি.মি. হাটার অভ্যাস সেই আমিই অফিস টু বাসা দিয়ে সীমাবদ্ধ সবকিছু। শুধু খাও, ঘুমাও ইত্যাদিই হয়েছে। অন্যদিকে ভিটামিন, ক্যালসিয়ামের কারণে শরীরের মাংসের ওজন তো বাড়ছেই। 


শতভাগ ধুমপানমুক্ত (পরোক্ষ ব্যতীত), ভাজা পোড়া থেকে বিরত, ফাস্টফুড থেকে বিরত, স্ট্রিট ফুড মুক্ত আলহামদুলিল্লাহ। যথেষ্ট নিয়ম মাফিক চলি সবসময়ই। বর্তমানে BMI বা আদর্শ ওজন চার্ট স্বাভাবিকই আছে।


দোয়ার দরখাস্ত সবাই সুস্থতার জন্য।

ভালবাসা অবিরাম 

Diarir Kotha - ডায়েরির কথা

Comments

Popular posts from this blog

আজ ৯ অক্টোবর ২০২৪

  ৯ অক্টোবর ২০১২। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আম্মা হু হু করে কাদছে, আব্বার চোখের কান্না ভেসে উঠছে। একে একে বড় বোন, মেঝ বোন, ছোট বোন, ছোট ভাই, বাডির অন্যান্যদের এবং নিকট প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। পঞ্চগড় থেকে রাত ৮টায় আহসান নামের একটা নন এসি গাড়িতে আমার গন্তব্য স্বপ্নের ঢাকা। আব্বা আমাকে গাড়িতে দেওয়ার জন্য পঞ্চগড় এ এলেন। আসলেন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে বিদায় দিলেন; এদিকে গাড়ি ছেড়ে দিল। শুরু হলো একটি ভয়ংকর সুন্দর, অনিশ্চিত কিন্তু একরাশ স্বপ্নের পথে যাত্রা। রাতের রাস্তার পাশের বাতিগুলোকে স্বাক্ষী রাখতে সারারাত চোখ বন্ধ না করেই দোকান, ভবন, অফিস, হাসপাতাল ইত্যাদির নাম/সাইনবোর্ড পড়তে পড়তে হাজার ঘণ্টার জার্নি শেষ করে ঢাকা মানিকনগর এ নামলাম। আমার পাশের এলাকার রমজান আলী ভাই আমাকে রিসিভ করার জন্য ঢাকা সায়েদাবাদ এর একটু আগে মানিকনগর এ অপেক্ষা করছেন। আমি গাড়ি থেকে নামতেই তিনি আমাকে রিসিভ করে নিয়ে গেলেন মানিকনগর বিশ্বরোড থেকে ২০০ গজ ভিতরের একটা মেসে। সেখানে একসাথে থাকেন এলাকারই বড় ভাই সাদ্দাম, আলমগীর, মানিক, শিমুল, মাহামুদুল এবং রমজান ভাই। প্রথম দেখায় সবাই আমাকে আ...

রিজিকের মালিক আল্লাহ

  একমাত্র বউ😀 এবং কন্যার চিন্তা মাথায় রেখেই গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসি। এ ছাড়া, করোনা মহামারীর কারণে ৪টা ঈদ পরিবারের সাথে করতে না পারার গ্লানি কমানোর উদ্দেশ্যে বউ এবং কন্যাকে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নাই। ঢাকায় ছাত্রাবস্থায় রান্নায় হাতে খড়ি। জামালপুর কিংবা ময়মনসিংহ এর গুটিকয়েক বুয়ার হাতের রান্না গলাধঃকরণ করার থেকে আমার হাতের রান্না হাজার গুণ ভালই। ঢাকায় একা থাকার সুবাধে তাই অফিস থেকে ফিরে রান্নাটা নিজেকেই করতে হয় যেহেতু বুয়ার রান্না সচরাচর এড়িয়েই চলি। গতকাল ভেবে চিন্তেই একটু বেশি করে রান্না করেছি (স্বাদটা চমৎকার) যেহেতু পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আজকে গ্রামের বাড়ি যাব। গতকাল রাতে খাওয়া শেষে তরকারিটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার গরম করে খেয়ে অফিসে গিয়েছি। ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবস তাই ব্যস্ততাও বেশ। শাখার বেশিরভাগ সহকর্মী ঈদে টিকেট না পেয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুপুরের আগে বা পরেই বের হয়ে গিয়েছেন। কতিপয় জরুরি কাজের জন্য তাই আমাকে থেকে যেতে হলো। ওদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস যা রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশ...

গন্ধ, হিংসার গন্ধ

এক সাথে দুই বন্ধু পড়াশোনা করত। তাদের একজন বেশ মেধাবী অপরজন কোন মতে টাইপের ছাত্র। পরীক্ষার ফলাফলও তাই, ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'। এখানে দুইজনের বাড়ি যদি কাছাকাছি হয় ১ম জনের স্বজনেরা বুক ফুলিয়েই বলবে আমাদের ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে আর অমুকের ছেলে 'টেনেটুনে'।  এরপর এ দুজন দুটি পৃথক কলেজে ভর্তি হলো। ১ম জন বিজ্ঞান বিভাগে, ২য় জন মানবিক বিভাগে। ভর্তির সাথে সাথেই মন্তব্য আসবে ওমুকের ছেলে 'টেমেটুনে' তাই মানবিকে ভর্তি হয়েছে। আমাদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হবে তাই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকগণ বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গেল ভর্তি করানোর জন্য আমাদের ছেলের এতই চাহিদা।  কলেজ জীবনও শেষ। পরীক্ষার ফলাফলও আগের মতই। ১ম জন জিপিএ ৫, ২য় জন জিপিএ 'টেনেটুনে'।  স্নাতকে ১ম জন Medical এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাও মস্ত এক সরকারি মেডিকেল কলেজে। আর ২য় জন ইসলামের ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করছে মফস্বলের কোন এক এমপিওভুক্ত কলেজে। কোন মতে যে স্নাতক টেনেটুনে পাস করলেই চাকরি যোগাড়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বে। Medical এ পড়াশোনা না করলেও ত্রিশের বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে একটা হাসপাতালের রিসি...